ম্যানার
Published : 20 Jan 2026, 11:15 AM
কথায় কথায় আমরা প্রায়ই বলে থাকি লোকটি বা মেয়েটি একেবারেই ম্যানারলেস। কিছুই কি শেখেনি পরিবার থেকে? এই যে ম্যানার বা শিষ্টাচার তাহলে প্রথম শিখতে হয় পরিবার থেকে। কী শিখব আমরা পরিবারে? বড়দের সম্মান করা, বিনয়ী হওয়া, নিয়ম মেনে চলা, ধৈর্য ধরে অন্যের কথা শোনা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপযুক্ত আচরণ মানুষকে ব্যক্তিত্ববান করে, সংযমী করে। ইদানিং স্টোয়িক দর্শন নিয়ে খুব চর্চা হচ্ছে। ম্যানার বা শিষ্টাচার নিয়ে কী বলছে স্টোয়িক দর্শন?
তাদের কাছে এটি কেবল একটি লোকদেখানো সামাজিক নিয়ম নয়, এটি আপনার চরিত্রের অভ্যন্তরীণ রূপ। এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন।
স্টোয়িকদের মতে, আমাদের আচরণ হওয়া উচিত চারটি মূল গুণের ওপর ভিত্তি করে: প্রজ্ঞা (ডরংফড়স), ন্যায়বিচার (ঔঁংঃরপব), সাহস (ঈড়ঁৎধমব) এবং সংযম (ঞবসঢ়বৎধহপব)-এর মিশ্রণে।
স্টোয়িক দার্শনিক এপিকটেটাস বলেছিলেন, প্রকৃতি মানুষকে একটি জিভ ও দুটি কান দিয়েছে, যাতে আমরা যা বলি তার দ্বিগুণ শুনতে পাই। অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা কেবল ভদ্রতা নয়, এটি একটি স্টোয়িক গুণ। অন্যের কথা বলার সময় বাধা দেওয়া মানে হলো নিজের অহংকারকে জাহির করা।
সময় মতো পৌছানো কেবল ভদ্রতা নয়, স্টোয়িকরা মনে করেন, সময় নষ্ট করা মানে মানুষের জীবন চুরি করা। সময় একমাত্র সম্পদ যা কখনো মানুষ ফিওে পায় না। এটি 'ন্যায়বিচার' বা জাস্টিস-এর পরিপন্থী।
যে কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ করা অভদ্রতা। তাে সে আবহাওয়াই হোক, যানজট বা খাবারের মান। এটা প্রকাশ কওে আপনি বাইরের পরিস্থিতির দাস। স্টোয়িকরা মনে করেন, যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই তা নিয়ে অভিযোগ করে অন্যদের বিরক্ত করা অনুচিত।
আমরা সবাই জানি রাগ মানুষের চরম শত্রু। মার্কাস অরেলিয়াস মনে করতেন, ক্রোধ বা রাগ মানুষের বিচারবুদ্ধিকে নষ্ট করে দেয়। কারো ওপর চিৎকার করা বা মেজাজ হারানো কেবল অভদ্রতা নয়, এটি নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ। প্রকৃত স্টোয়িক শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন।
স্টোয়িক গুরু মুসোনিয়াস রুফাস বিশ্বাস করতেন, নিজের জিহ্বা বা স্বাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা হলো আত্মসংযমের প্রথম ধাপ। গোগ্রাসে খাওয়া বা খাবারের খুঁত ধরাকে তারা অসভ্যতা হিসেবে দেখতেন।
অন্যের অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করা স্টোয়িক দর্শনে অত্যন্ত নিচু মানের কাজ। এটি সাহস এবং ন্যায়বিচার—উভয় গুণের অভাব প্রকাশ করে। স্টোয়িকরা মনে করেন, যদি কারো সম্পর্কে কিছু বলতেই হয়, তবে তা যেন তার সামনে বলার মতো সাহস থাকে।
বরাই করা বা হামবড়া ভাব দেখানো আসলে শিষ্টাচারের বাইরে। নিজের অর্জন নিয়ে বারবার বড়াই করা বা অন্যকে ছোট করে কথা বলা স্টোয়িক দর্শন বিরোধী। একজন সত্যিকারের মানুষ নিজের কাজ দিয়ে নিজের পরিচয় দেন, কথা দিয়ে নয়।
বর্তমান যুগে কথা বলার সময় ফোন চেক করা বা অন্যমনস্ক থাকা একটি বড় অভদ্রতা। স্টোয়িকরা 'বর্তমান মুহূর্তে' বেঁচে থাকাকে গুরুত্ব দেন। কারো সাথে কথা বলার সময় তাকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া হলো সেই ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানো শ্রেষ্ঠ উপায়।
আজকের যে শিষ্টাচার নিয়ে এতো কথা এর চর্চা হয়েছে বহু আগে থেকেই। মানুষকে যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে সম্মান করা, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ভদ্রতা। এটি কোনো মুখোশ নয়, উন্নত জীবন যাপনের পদ্ধতি। মানুষ হিসেবে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সূত্র: ইন্টারনেট
Add a Comment