ফিচার
Published : 31 Dec 2025, 04:12 PM
নতুন বছর এসেছে। স্বাগত ২০২৬।
ঝরে গেলো আরো একটি বছর। নতুন বছরকে বরণ করতে চলছে আতশবাজির ঝলকানি।
তবে পৃথিবীর সব প্রান্তে একইসঙ্গে ঘড়ির কাঁটায় বারোটা বাজে না। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য পৃথিবীর কোনো দেশ সবার আগে নতুন বছরকে স্পর্শ করে, আবার কোনো দেশ পায় সবার শেষে।
কে প্রথম?
অনেকেই হয়তো ভাবেন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডই বুঝি সবার আগে নতুন বছরের সূর্য দেখে। কিন্তু তথ্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ক্ষুদ্র এক দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি (Kiribati) নতুন বছরের সূর্য দেখে সবার আগে।
কিরিবাতির ৩৩টি দ্বীপের মধ্যে কিরিটিমাটি (Kiritimati) বা ক্রিসমাস আইল্যান্ডে প্রথম ১২টা বেজে ১ মিনিট হয়। যখন লন্ডনে দুপুর জিএমটি, কিরিবাতিতে তখন মধ্যরাত। অর্থাৎ, গ্রিনিচ মান সময়ের চেয়ে তারা ১৪ ঘণ্টা এগিয়ে থাকে।
কেন কিরিবাতি সবার আগে?
এর পেছনে রয়েছে 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা'র বিশেষত্ব। ১৯৯৫ সালের আগে কিরিবাতি দেশটি তারিখ রেখার দুই পাশে বিভক্ত ছিল, যার ফলে দেশের এক অংশে যখন সোমবার, অন্য অংশে তখন রবিবার থাকত। প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে দেশটি ১৯৯৫ সালে তারিখ রেখা পরিবর্তন করে নিজেদের সময়কে এগিয়ে নিয়ে আসে। সেই থেকে কিরিবাতিই হয়ে ওঠে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো বিশ্বের প্রথম ভূখণ্ড।
কিরিবাতি খুব বড় দেশ নয়, তবে নববর্ষের উদ্দীপনায় তারা পিছিয়ে থাকে না। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে নববর্ষ পালন করে তারা।
স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে লোকজ নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে।
দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় নববর্ষের প্রথম প্রহরটি পর্যটক এবং স্থানীয়রা সমুদ্র সৈকতেই কাটানো পছন্দ করেন।
নতুন বছর যেন সবার জন্য কল্যাণ নিয়ে আসে, সে উদ্দেশ্যে সেখানকার গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
সবার শেষে কারা?
মজার ব্যাপার হলো, কিরিবাতির মানুষ যখন ১ জানুয়ারি পালন করে শেষ করতে যায়, তখনো বিশ্বের কিছু জায়গায় ৩১ ডিসেম্বরের বিকেল চলে। পৃথিবীর সবার শেষে নতুন বছর শুরু হয় জনমানবহীন হাওল্যান্ড এবং বেকার আইল্যান্ডে। তবে জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে আমেরিকান সামোয়া সবার শেষে নববর্ষ পালন করে।
Add a Comment