হেলথমুড
Published : 09 Jan 2026, 04:24 PM
হাড়কাঁপানো শীতের দাপট এখন। হিমাঙ্কের কাছাকাছি পারদের ওঠা-নামা। জনজীবন বিপর্যস্ত। প্রকৃতি কেবল ঘন কুয়াশা আর উত্তুরে হাওয়ার কনকনে ঠান্ডা নিয়ে আসেনি, নিয়ে এসেছে নানা রোগবালাইয়েও! তীব্র এই শীতে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কি কি সমস্যা হতে পারে শীতে?
তাপমাত্রা যখন অস্বাভাবিক কমে যায়, তখন শরীরের তাপ উৎপাদন প্রক্রিয়ার চেয়ে তাপ হারানোর গতি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে, যা জীবনঘাতী হতে পারে।
সতর্কতা: শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কয়েক স্তরে গরম কাপড় পরুন।
তীব্র শীতে বাতাস ভারী হয়ে যায় এবং দূষিত কণাগুলো নিচের দিকে থাকে। হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রায় ফুসফুসের রক্তনালী সংকুচিত হয়, যার ফলে হাঁপানি (Asthma) ও সিওপিডি রোগীদের শ্বাসকষ্ট চরমে পৌঁছায়।
সতর্কতা: কুয়াশার মধ্যে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। জরুরি প্রয়োজনে ডাবল মাস্ক ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। রক্তনালী সংকুচিত হওয়ায় হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা: ভোরে বা রাতে তীব্র ঠান্ডায় বাইরে কঠোর পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলুন।
তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছে পৌঁছালে জয়েন্টের তরল (Synovial fluid) ঘন হয়ে যায়। এতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা পুরোনো ব্যথার রোগীদের নড়াচড়া করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
সতর্কতা: আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক দিন এবং যতটা সম্ভব সচল থাকার চেষ্টা করুন।
এই শীতে জরুরি করণীয়
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: শরীর গরম রাখতে আদা চা, তুলসী পাতার চা এবং কুসুম গরম স্যুপ পান করুন। প্রোটিন ও ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার শরীরের ভেতর থেকে তাপ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে।
গরম পানির ব্যবহার: পান করা থেকে শুরু করে ওজু বা গোসল—সব ক্ষেত্রেই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। তীব্র ঠান্ডায় সরাসরি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে হঠাৎ 'কোল্ড শক' হওয়ার ভয় থাকে।
শিশুদের বিশেষ যত্ন: তীব্র শীতে শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাদের বুক ও পিঠ সবসময় গরম কাপড়ে ঢেকে রাখুন এবং কানে যেন বাতাস না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
রোদ পোহানো: সুযোগ পেলেই দিনের বেলায় গায়ে রোদ লাগান। এতে শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হবে যা হাড়ের ব্যথা কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশেষ পরামর্শ: তীব্র শীতে যদি শরীর নীল হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক কাঁপুনি, প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা অনুভব হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
Add a Comment