যাপন
Published : 01 Jan 2026, 04:04 PM
টেনশন কমান, কাজ কমান: ২০২৬ সালে এই হোক জীবনের লক্ষ্য।
নতুন বছরের শুরু মানেই আমরা নিজেদের ওপর একগাদা কাজের বোঝা চাপিয়ে দিই। কিন্তু ২০২৬ সালে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ হলো—তালিকায় নতুন কাজ যোগ না করে, বরং তালিকা থেকে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিন।
১. নিত্যদিনের সহজ টিপস
জামাকাপড় ভাঁজ করা: সব পোশাক ভাঁজ করার দরকার নেই। অন্তর্বাস বা মোজা আলাদা ড্রয়ারে অগোছালো থাকলেও চলে।
ইমেইল কমান: যত বেশি ইমেইল করবেন, তত বেশি উত্তর আসবে। প্রয়োজন না হলে রিপ্লাই দেবেন না।
মাল্টিভিটামিন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি করে সাপ্লিমেন্ট খেয়ে টাকা নষ্ট করবেন না।
স্টাইলিশ লুক: পোশাক নিয়ে খুব বেশি না ভেবে মাথা থেকে পা পর্যন্ত একই রঙের পোশাক পরুন। এতে আপনাকে মার্জিত দেখাবে।
ত্বকের যত্ন: খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার না করে শুধু একটি ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। অধিকাংশ সানস্ক্রিনেই ময়েশ্চারাইজার থাকে।
রান্না: দক্ষিণ এশীয় রান্নায় অতিরিক্ত মসলা না দিয়ে সঠিক পরিমাণে অল্প মসলা ব্যবহার করলে খাবারের আসল স্বাদ বজায় থাকে।
অগোছালো ঘর: যদি ঘর গুছিয়ে রাখতে কষ্ট হয়, তবে জোর করে নিজেকে দোষ দেবেন না। বরং ময়লা কাপড় বা পরিষ্কার কাপড়ের জন্য নির্দিষ্ট ঝুড়ি রাখুন।
২. সপ্তাহজুড়ে মানসিক প্রশান্তি
সন্তানকে বড় হতে দিন: সন্তানদের ছোটখাটো সমস্যাগুলো তাদেরকেই সমাধান করতে দিন। এতে তারা স্বাবলম্বী হবে।
বাগান: বাগানে অপ্রয়োজনে কীটনাশক দেবেন না। প্রকৃতিকে তার নিজের মতো বাস্তুসংস্থান তৈরি করতে দিন।
ব্যায়াম: ব্যায়াম মানেই জটিল কিছু নয়। আপনার যা করতে ভালো লাগে এবং যা সহজ মনে হয়, সেই নড়াচড়াগুলোই করুন।
বাজার করা: রান্নাঘরের জন্য একগাদা উপকরণ না কিনে অল্প কিছু সতেজ উপকরণ দিয়ে পুষ্টিকর খাবার তৈরির অভ্যাস করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: সব দাগ দূর করতে দামি রাসায়নিক লাগে না। ঘরের সাদা ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়েই অনেক জেদি দাগ তোলা সম্ভব।
৩. জীবনকে উপভোগ করুন
বই ও সিনেমা: কোনো বই বা সিনেমা ২০ পৃষ্ঠা পড়ার পর বা কিছুক্ষণ দেখার পর যদি ভালো না লাগে, তবে তা জোর করে শেষ করার প্রয়োজন নেই। জীবন ছোট, অন্য ভালো কিছু খুঁজুন।
সামাজিক অনুষ্ঠান: কোনো পার্টিতে গিয়ে যদি অস্বস্তি লাগে, তবে পুরো সময় থাকার দরকার নেই। আয়োজকের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে চলে আসুন।
ভ্রমণ: ছুটিতে গিয়ে সব দর্শনীয় স্থান দেখার নেশায় ঘুরবেন না। অল্প জায়গায় যান এবং সেই পরিবেশকে উপভোগ করুন। ফিরে আসার পর হাতে একদিন সময় রাখুন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।
ঘর সাজানো: ঘরকে শো-রুম বানাবেন না। অতিরিক্ত আসবাব বা শোপিস ঘরকে অগোছালো দেখায়। মাত্র ৩-৪টি প্রিয় জিনিস সামনে সাজিয়ে রাখুন।
জন্মদিন: শিশুদের জন্য বড় অনুষ্ঠানের চেয়ে পার্কে খেলাধুলা বা ছোট ঘরোয়া আয়োজনই বেশি আনন্দের।
৪. যখন পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়
পোষা প্রাণী: ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নেওয়ার আগে পোষা প্রাণীকে খাবার দেবেন না, এতে গাড়িতে তাদের বমি হতে পারে।
চাকরি খোঁজ: একগাদা জায়গায় আবেদন না করে পরিচিত নেটওয়ার্ক বা প্রাক্তন সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করুন।
সংকটকালীন খাবার: দুশ্চিন্তার সময় ডায়েট করবেন না। ব্রেন সচল রাখতে তখন কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন প্রয়োজন।
বিরোধ এড়িয়ে চলবেন না: মনের ভেতর ক্ষোভ পুষিয়ে না রেখে সরাসরি কথা বলুন। স্বাস্থ্যকর বিতর্ক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
শোকের সময়: কেউ প্রিয়জন হারালো তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য লম্বা বক্তৃতা না দিয়ে শুধু তার পাশে গিয়ে বসুন এবং তার কথা শুনুন।
৫. ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
নিজের জন্য ঘর: বাড়ি তৈরির সময় ভবিষ্যতের ক্রেতা কী ভাববে তা না ভেবে, নিজের আরাম ও মঙ্গলের কথা ভাবুন।
ক্যারিয়ার: ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপ আগে থেকে ছক কষে রাখা কঠিন। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন কিছু শেখার মানসিকতা রাখুন।
সন্তানের সাফল্য: শুধু গ্রেড বা রেজাল্ট দিয়ে সন্তানের বিচার করবেন না। তারা মানুষ হিসেবে কেমন হচ্ছে, সেদিকে নজর দিন।
৬. বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া
নিজের আবেগ: আপনার মন খারাপ বা আবেগের জন্য সঙ্গীকে দায়ী করবেন না। নিজের আবেগের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়া: ইন্টারনেটে পোস্ট করার জন্য জীবন যাপন করবেন না। আপনার অনলাইন পরিচিতিই আপনার সবটুকু নয়।
বয়স: বয়সের দোহাই দিয়ে আনন্দ করা বা পোশাক পরা থেকে বিরত থাকবেন না। আপনার যা ভালো লাগে তা-ই করুন।
'না' বলতে শিখুন: সবাইকে খুশি করতে গিয়ে সব কাজে 'হ্যাঁ' বলবেন না। আপনার শক্তি ও সময়ের সীমাবদ্ধতা বুঝুন।
২০২৬ সাল হোক আরও সহজ ও সুন্দর।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
Add a Comment