প্যারেন্টিং
Published : 05 Jan 2026, 04:37 PM
শীতে শিশুর যত্নে অবহেলা নয় মোটেও।
শীত আপাত স্বস্তিদায়ক হলেও ছোটদের জন্য নিয়ে আসে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় শুষ্ক আবহাওয়া আর ধুলোবালিতে তারা দ্রুত সর্দি, কাশি, জ্বর বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। শীতে আপনার সোনামণিকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস নিচে তুলে ধরা হলো।
১. আরামদায়ক ও সঠিক পোশাক নির্বাচন
শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখা জরুরি, তবে পোশাক নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে।
লেয়ারিং করুন: সরাসরি উলের পোশাক না পরিয়ে নিচে নরম সুতির কাপড় পরালে ভালো হয়। অনেক সময় উল থেকে শিশুর অ্যালার্জি হতে পারে।
ভারী কাপড় এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত ভারী কাপড়ে শিশু ঘেমে যেতে পারে। তখন শিশুর ঠান্ডা লেগে যায়।
মোজা ও টুপি: ঘরের বাইরে বা মেঝেতে হাঁটার সময় অবশ্যই মোজা ব্যবহার করতে হবে। কানে যাতে ঠান্ডা বাতাস যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
২. সঠিক পদ্ধতিতে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
তীব্র শীতে শিশুদের গোসল নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন।
কুসুম গরম পানি: পান করা এবং গোসল—উভয় ক্ষেত্রেই শরীরের তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
স্পঞ্জিং: খুব বেশি ঠান্ডা পড়লে প্রতিদিন গোসল না করিয়ে কুসুম গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দেয়া যেতে পারে।
সতর্কতা: গোসলের আগে বা পরে চুলে অতিরিক্ত সরিষার তেল মাখাবেন না, এতে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।
৩. ত্বকের সংবেদনশীলতা ও ময়শ্চারাইজার
শিশুর ত্বক বড়দের চেয়ে অনেক বেশি নরম ও পাতলা। শীতের শুষ্কতা থেকে বাঁচতে:
প্রতিদিন ভালো মানের বেবি লোশন, অলিভ অয়েল বা গ্লিসারিন ব্যবহার করুন।
গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর।
নিয়মিত হালকা ম্যাসাজ শিশুর রক্ত সঞ্চালন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
শীতে শিশুদের খাওয়ার অনীহা দেখা দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনুন:
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কমলা, লেবু বা মাল্টা খাওয়ান।
শীতকালীন সবজি: গাজর, টমেটো, বিট ও অন্যান্য সবজি দিয়ে খিচুড়ি বা গরম স্যুপ বানিয়ে দিন।
প্রচুর পানি: শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও শিশুকে পর্যাপ্ত তরল খাবার ও পানি পান নিশ্চিত করুন।
৫. ঘরোয়া পরিবেশ ও সতর্কতা
ধুলোবালি থেকে দূরে রাখা: শীতে বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকে, তাই বাইরে বের হলে মাস্ক পরার অভ্যাস করান।
আলাদা তোয়ালে: শিশুর ব্যক্তিগত জিনিস যেমন রুমাল, গামছা বা তোয়ালে সবসময় আলাদা এবং পরিষ্কার রাখুন।
ভারী কম্বল নয়: ঘুমের সময় খুব ভারী কম্বল ব্যবহার করবেন না, কারণ শিশু সেটি নিজের মুখের উপর টেনে নিলে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি (SIDS) তৈরি হতে পারে।
বিশেষ পরামর্শ: সাধারণ সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার রস, মধু বা আদা-লেবু চা কার্যকর। তবে শ্বাসকষ্ট, টানা জ্বর বা অতিরিক্ত কাশি দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Add a Comment