গল্প
Published : 20 Dec 2025, 04:54 PM
এটি একটি পুরুষের কণ্ঠস্বর। দুপুর হওয়ার আধঘণ্টা আগের ঘটনা। এক দঙ্গল মানুষ তার কণ্ঠস্বর শুনছে। সেও আছে তাদের মধ্যে; একমাত্র নারী।
‘‘ প্রিয় ভাই ও বোনেরা
আপনাদের যদি উচ্চতা ভীতি থাকে তাহলে আমি কিছু দেখাতে পারব না। যারা ভয় পাবেন তারা চলে যান। কিন্তু উচ্চতাকে যদি ভয় না , কতো উপরে উঠতে চান তা দেখার ইচ্ছে করেন, যদি দেখতে চান রাস্তাটাকে ফিতার মতো লাগছে কিনা, যদি দেখতে চান মানুষগুলোকে বিন্দুর মতো লাগছে, তাহলে আমার কথা শুনুন। আমি এখন আপনাদের বলতে যাচ্ছি, কীভাবে আপনি আমার পাখিটার পিঠে ওঠে সারা শহর ঘুরে দেখতে পারেন। শহরের আগে পিছে উপরে, মধ্যে । কোনো চাপ নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই, কোনো দুঃখ নেই। জাগতিক পৃথিবীর কোনো ময়লা আবর্জনা আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা পথ চলতে যেমন ময়লা দেখে লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটতে হয়, তেমন করে চলতে হবে না। সংক্ষেপে এটুকুই বলতে চাই বন্ধুরা, কোনো যন্ত্রণা নেই।
আপনাকে উড়িয়ে আনব যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকে ডানে দুইশ তিপ্পান্ন বাই পাঁচ বিডন রোডে। পিন কোড: সেভেন সেভেন জিরো জিরো সিক্স। মিত্র সিনেমা হল থাকবে আমাদের সামনে এবং নিচে। আমার ডান সাইডে এখন আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন? এটা হলো আমার পাখি। সে এখন খাঁচায় আছে। কিন্তু না, তার মন একট্ওু খারাপ নয়। কারণ সে আপনাদের সেবার জন্য নিয়োজিত আছে।
আমি তাকে ধরে ঝুঁলিয়ে দেবো। আপনারা একটুও উৎকণ্ঠিত হবেন না। খালি খেয়াল রাখবেন আপনারা উড়তে পারছেন কী না। আপনাদের পা পাখির পিঠের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আটকে থাকবে। শক্ত করে বেঁধে দেয়া হবে । আপনারা ভাববেন ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন। পাখিটা একটা ঘোড়া আর আপনার আরোহী। জকিদের মতো আপনারা। যেমন রেসকোর্স ময়দানে বড়লোকেরা আসে শীতের সানডেতে, চোখে কালো চশমা পরে। গাড়িগুলোকে মাটির মধ্যে ঘষা দিয়ে পার্ক করে। তেমন ভাববেন নিজেদের।’’
এটি অবশ্যই একটি পুরুষের কণ্ঠস্বর। দুপুর হওয়ার আধঘণ্টা আগে সমবেত জনতা তার কথা শুনছে। সব মিলিয়ে পঞ্চাশ কি ষাট জন জড়ো হয়েছে সেখানে। এখানে আছেন সেইসব মানুষ যাদের হাতে অফুরন্ত সময়। একটু দূরে বিশ কি তিরিশ গজ দূরে ভিড়ের পেছনে একটি নারী ও তার শিশু।
নারীটির হাত কালো, নখ এবড়ো খেবড়ো বাঁকা। হাতে অজ¯্র ভাঁজ। সম্ভবত একটু আগেই সে বাসনপত্র ধুয়েছে। শিশুটি ছেলে। সাত থেকে আট বছর । গায়ে শার্ট। আর হাফপ্যান্ট পরা। শার্টটি কোমরের কাছটায় একটু কোঁচকানো। সম্ভবত প্যান্টের ভেতরে ঢুকানো ছিল, তাই। এখন বের করা অবস্থায়। বালকটি স্কুল থেকে ফিরেছে।
সে দোকানের জানালার দিকে দেখালো। তার মাকে। সেখানে থরে থরে সাজানো আছে খেলনা। একটা ছোট ক্রিকেট সেট আছে সেখানে। একটা ব্যাট, প্যাড, ইউকেট এবং গ্লাভস। একটা ছোট্ট হেলমেট। একটি ক্যাপ। যার মধ্যে লাল সুঁতো দিয়ে শচীনর টেন্ডুলকারের মুখ ঝুলানো। এর সঙ্গে একটা বাদামী ক্লিপবোর্ড আছে। সঙ্গে ছোট্ট নোট প্যাড আর কলম। যেখানে স্কোর লেখা যায়। কাগজটিতে দাগ টানা। সেখানে বোলারের ফিগার ওভার বাই ওভার, বল বাই বল লেখা যাবে। বাচ্চাটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। নারীটি শিশুটির মা। তাকে বেশ ক্লান্ত দেখায়। যদিও সে ছেলেটাকে দোকানে নিয়ে এসেছে। গ্লাসের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সে ভাবছিল কোনটা সে কিনতে চায়। এসময় সে কণ্ঠস্বর শুনে পেছন দিকে তাকায়।
আপনি কি ভয় পেয়েছেন?
আমি তা মনে করিনা। আমি কিছুই লুকাইনি। আমি জানি আপনাদের কেউ কেউ নার্ভাস। বেশিক্ষণ আপনাদের ধরে রাখব না। আমার বাস আসা পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো। তারপর চলে যাবো। কিন্তু আপনাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই এতে। বলুন, এতে কী ক্ষতি হবে? পাখিটা রেগে যাবে। সে হয় তো এক মিনিটের জন্য উড়বে অথবা অমন কিছু করবে। অথবা কোন একটা ছাদে গিয়ে বিশ্রাম নেবে। হ্যাঁ , এরকম যে হবেই তা আমি বলছি না। আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, যদি ওরকম কোনো ঘটনা ঘটেও পাখিটা কারো ছাদে এক সেকেন্ডের জন্য অপেক্ষা করবে। দেখবে কেউ দেখছে কিনা। কারণ আমরা কোনো ঝামেলা চাই না। কেউ আপনাদের দিকে চোর চোর বলে দৌঁড়াবে না। এবং পরিষ্কার হয়েই গেল সব কিছু ঠিকঠাক । যদি মনে হয় কেউ দ্রুত সিঁড়িতে নেমে আসছে এবং যদি তারা জিজ্ঞেস করে আপনারা কোথা থেকে এসেছেন, কে আপনি। তাদেরকে বলবেন। কেন আপনি সত্য গোপন করবেন? আপনি তো কোনো কিছু চুরি করছেন না। তাদেরকে বলবেন আপনি পাখির ডানায় ভর করে আকাশ থেকে নেমে এসেছেন।
একথা শুনে জনতা হাসে। কেউ হাততালি দিয়ে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করে। কেউ একজন আট আনার কয়েন ছুঁড়ে দেয়। এই শব্দটা পাখিটাকে বিরক্ত করে। সে খাঁচার ভেতর ডানা ঝাঁপটাতে থাকে। এটি খাঁচার শিকের ভেতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে।
রাস্তা পার হয়েই তারা সিনেমা হল লবির ফ্লোরে দাঁড়ায়। দুটো বালক, দুজনের বয়সই ১৩ এর বেশি হবে না। তাদের কাছে মেঝে মোছার যে মপ তা পুরোনো হয়ে গেছে। একটা ছেঁড়া টাওয়েল লাঠির আগায় বাঁধা।
নারীটি তাদেরকে তাকিয়ে দেখতে থাকে। তাদের বালতির জল ক্রমশ কালো হয়ে উঠছে। তাদের উচিত জলটা ফেলে দেয়া। সে ভাবে, নতুন জল দিয়ে বালতিটা ভর্তি করে ফ্লোরের ময়লা মোছা উচিত। কিন্তু এখানে তা সম্ভব নয়। কেননা তাদের দেখার কেউ নেই। এবং তাদের এটা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। মধ্যাহ্ন শোতে বেশিরভাগই ক্লাস ফাঁকি দেয়া ছেলেরা থাকে। বিশেষ করে স্কটিশ চার্চের ছেলেরা বেশি। একটু দূরের সেন্ট পলের ছেলেরাও আছে। এই শোতে সাধারণ ইংরেজি সিনেমা দেখানো হয়। এমন একটা নাম থাকে যা যৌনতাকেই প্রাধান্য দেয়। সেই সাথে থাকে একটা সাদা চামড়ার নারীর পোস্টার।
আজকের শো’র নাম ছিল ‘ইনডিসেন্ট প্রপোজাল’। দর্শকরা ডেমি মুরের গ্রীবার অংশ কেটে নিয়েছে, কেউ রেডফোর্ডের গালের অংশ ছিড়ে নিয়েছে।
আমি দুঃখিত বন্ধুরা, কোনো ভারি নারী-পুরুষ এর ওপর ওঠার নিয়ম নেই। আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমার পাখি অনেক স্ট্রং। তাকে আমি অনেক খাবার দেই। দিনের মধ্যে ৫ বার তাকে খেতে দেয়া হয়। বিশেষ করে ক্রিম বিস্কুট, মাঝে মাঝে মুরগী এবং ভাত। তারপরই সে একটা পাখি। কতটুকুই বা ওজন সে নিতে পারে!
আরেক দফা ক্ষমা প্রার্থনায় জনতা খুবই আনন্দ পায়। এর মধ্যে একটি বাস থামে। যাত্রীদের কেউ কেউ মাথা বের করে দেখার চেষ্টা করে, ওখানে কী হচ্ছে? এখানে ভিড়টা কিসের? কিছু লোক ভিড় থেকে বেরিয়ে বাসে উঠল। এবং একদল নতুন ভিড় সম্মীলিত হলো।
তার ছেলেটি এখনও ক্রিকেট সেটটির দিকেই মুগ্ধ হয়ে আছে, তাই সে কয়েক কদম এগিয়ে ভিড়টার দিকে যায়। সে খুবই মজা পায়। সে বুঝতে চায় লোকটি আসলে কী করতে চায়? লোকটি পাখিটাকে দিয়ে কী করাবে? সে আসলে কী পেতে চায়?
আপনাদের মধ্যে একজন সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে জানান, আমি প্রস্তুত। আমার পাখিও প্রস্তত। আমরা খুব সুন্দর সময় বেছে নিয়েছি। সবচেয়ে ভাল সময় হলো বিকেল তিনটা/চারটা। কারণ সূর্য ঢলে যেতে থাকলে আপনার বা পাখির গগলস লাগবে না। আপনারা ইচ্ছা করলে গগলস পরতে পারেন। কিন্তু আমার পাখির লাগবে না।
আরেক দফা হাসির রোল পড়ে যায়।
শিশুটি এবার নিজে নিজেই দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। আর তার মা জনতার কাছাকাছি এবং লোকটি কী বলছে তা শুনতে পাচ্ছে।
আমার পাখির গগলস দরকার নেই। সে খুবই হ্যান্ডসাম। সে আমার ব্ল্যাক ডায়মন্ড। এখন সে উড়ার জন্য প্রস্তত। আশা নিয়ে এর পিঠে উঠুন। মাথা পেছনে হেলিয়ে দেন। এবং বাতাসকে আপনার চুল ছুঁতে দেন। এবং তাকে উঠতে দেন।
চল্লিশ কি পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যেÑ ম্যাক্সিমাম ১ ঘণ্টার মধ্যে । যদি বাতাস ঠিকমতো বয় তবে আপনারা চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে পৌঁছে যাবেন। বউ বাজারের উপর দিয়ে যাবার সময় দেখবেন ফার্নিচারের দোকান। আপনি এতো উপরে থাকবেন যেÑ আপনাদের নাকে তারপিন এবং বার্ণিশের গন্ধ লাগবে না। এবং যখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস বিল্ডিং এর ডানপাশে থাকবেনÑ পাখিটা একটু বিশ্রাম নেবে। ছাদের ওপর তখন কেউ থাকবে না। সবাই নিচ তলায় কাজ করছে। সেখানে বেশিক্ষণ থাকবেন না। পাখিটাকে স্পয়েল করে দেবেন না। আপনারা ভাল টাকা দিয়েছেন। সে যদি করুণ দৃষ্টিতে আপনাদের দিকে তাকায় তবু তাকে পাত্তা দেবেন না। তাকে আবার উড়তে বলবেন।
পরের আধঘণ্টায় আপনারা পার্কস্ট্রিটে এবং চৌরঙ্গির ৫ তারকা হোটেল অতিক্রম করবেন। আপনারা যদি ভাগ্যবান হন সে আপনাদের গ্রান্ড হোটেলের ওপর দিয়ে নিয়ে যাবে। এবং আপনারা দেখতে পাবেন সেখানে ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা থেকে লোকজন এসেছে।
মা’টি এবার শিশুটির দিকে ফেরে। তখন সে দোকানিকে কী যেন জিজ্ঞেস করছে। দোকানদার মধ্যবয়সী। শিশুটির একের পর এক কৌতুহল উদ্দীপক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। যার দাম কক্ষণও তার পিতা-মাতা দিতে পারবে না। তাই সে পত্রিকা পড়তে থাকে।
পত্রিকা থেকে মাথা উঠিয়ে দুবার মাথা নাড়িয়ে সে শিশুটিকে চলে যেতে বলে।
যখন আপনারা পার্ক স্ট্রিট পার হবেন, পাঁচ মিনিটে অথবা তার মাথায়ই নিচের দৃশ্যগুলো পরিবর্তিত হতে থাকবে। ঘরবাড়ি চলতে থাকবেÑ তাদের ছাদগুলো হাওয়া হয়ে যাবে। যে সব শিশুরা সেখানে খেলছিল তারাও হাওয়া হয়ে যাবে। শুধু সবুজ ময়দানের মধ্য দিয়ে প্রবহমাণ কালো পিচের রাস্তার মধ্যে সাদা গাড়ি এবং হলুদ ট্যাক্সি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
কিন্তু খুব সাবধানÑ যখন শহরের সবচেয়ে উঁচু দালানের পাশ দিয়ে যাবেন। যার সম্পর্কে পেপারে পড়েছেন, রেডিওতে শুনেছেন এমনকি টিভিতে দেখেছেন। সবাই, সবাই এর কথা জানেন। এটা এতো উঁচু যে আমার পাখিটা অতো উঁচুতে উড়তে পারবে না। সুতরাং খুব সাবধান । ওই উঁচু বিল্ডিং এর মাঝ বরাবর কেবল কেবল পাখিটা উড়তে পারবে।
লোকটি তার হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে মাথা নুইয়ে খাঁচার সামনে পাখিটির চোখে চোখ রাখে। সে তার গলার স্বর নিচু করে। পাখিটি ঘাড় বাঁকিয়ে তার কথা শোনার জন্য সজাগ হয়।
ওহ আমার সোনা পাখি মনে রেখ তুমি শুধু সোজা উড়বে, ডানে বাঁয়ে কোথাও তাকাবে না, কেবল একটু ধীরে চলবে যেন তারা বিল্ডিং এর ভেতর কী হচ্ছে তা যেন দেখতে পায়। তুমি কি প্রস্তুত?
শুনতে পাচ্ছ আমায়?
চুপ। সবাই চুপ। পাখিটি এখন কথা বলে উঠবে।
ভিড়ের মধ্যে কোনো মানুষ একচুল নড়ে না। সমস্ত চোখ খাঁচার দিকে। শিশুটিও তার মায়ের কাছে এসে দাঁড়ায় কারণ এখানে অনেক ভিড়। সে তাকে উঁচু করে ধরে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য। এদিকে সিনেমা হলের কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন হয়ে গেছে।
পাখিটি ডেকে ওঠে। একবার , দুইবার
হ্যাঁ হ্যাঁ আমার ভাই বোনেরা, সে বলেছে, হ্যাঁ হ্যাঁ সে রেডি। সে আপনাদের ওই উচু বিল্ডিংটায় নিয়ে যেতে রাজি।
আমার পাখির ওপর সওয়ারি হন। যান এবং দেখুন। একে মাটি থেকে নয়। এখান থেকে কিছুই দেখতে পাবেন না। ওখান থেকে দেখুন কী লম্বা বিল্ডিং। এতো উঁচু দালান দেখে আপনাদের গ্রীবা শক্ত হয়ে যাবে। বিল্ডিং এর চারপাশে শক্ত দেয়াল তার ওপর গ্লাস বসানো আছে। আপনি রাত্রে ইচ্ছে করলেই ওখানে যেতে পারবেন না। যদি আপনারা পাখিটার ওপর থাকেন তাহলে আর ভাবনার কিছু নেই। সে আপনাকে সেখানে নিয়ে যাবে। এবং আপনি দেখতে পাবেন কীভাবে তারা বাস করেন।
এসময় আরেক দফা রদবদল হয়। জনতা এর মধ্যে অর্ধেক হয়ে যায়। বাস আসে, তারা চলে যায়।
নারীটি তার ঘরে আসে। শিশুটি কাপড় পাল্টায়, দুপুরের খাবার খায়। সে বলে তার ঘুমানো দরকার। কারণ বাইরে অনেক রোদ। ঘুম থেকে ওঠে সে বাইরে খেলতে যেতে পারবে। তারপর ফিরে এসে পড়তে বসবে। সে হারিকেনের চিমনি পরিষ্কার করতে করতে বলে যদি পরীক্ষায় ভালো করে তবে তাকে ওই সেটটি কিনে দেবে। সে একবারে ওই সেটটি কিনতে পারবে না। তাকে একটা একটা করে কিনে সেট বানাতে হবে।
এ কথায় সন্তুষ্ট হয়ে শিশুটি বিছানায় যায়। নারীটি রাস্তার পাশের পাইপে হাত মুখ ধোয়।
দশ মিনিট পর সে তার কাজ শুরু করে। বিকেলের কাজ দাশগুপ্তাদের। হালকা পাতলা কাজ। কেবল মেঝে পরিষ্কার করা দুধ আনা আর চা বানানো। এবং যখন সে ময়লা পানি ফেলে নতুন করে পানি ভরে মেঝে পরিষ্কার করতে যাচ্ছে। তখন পাখিটাকে জানালায় বিশ্রাম করতে দেখে।
সে ওটির দিকে তাকায়। কল্পনা করে নিজেকে ওর পিঠের ওপর। এটা যে অবিশ্বাস্য তা ভেবেই তার হাসি পায়। সে একজন ৩৭ বছরের নারী। যাকে নিজেকে এবং শিশুকে পালতে হয়। একলা এই শহরে। এরই মধ্যে সে ওই লোকটির আজগুবি কথা শুনে সময় নষ্ট করেছে ফেলেছে। তবু, ওই পাখি আর ওই উঁচু বিল্ডিং এর গল্প শুনতে শুনতে তার ভেতরে খারাপ লাগতে থাকে...
লাবণ্য প্রভা
০২.০২.২০১৬
Add a Comment