bongshaitimes.com
ফিচার +
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • ফিচার
লিভিং +
  • প্যারেন্টিং
  • যাপন
  • সম্পর্ক
  • ফ্যাশন
  • অন্দরমহল
  • রসুইঘর
  • রেস্তোরা
  • কেনাকাটা
  • বেড়ানো
  • ম্যানার
  • শখ
  • লিভিং
হেলথমুড +
  • রোগবালাই
  • মনের অসুখ
  • আপনার ডাক্তার
  • নারীস্বাস্থ্য
  • শিশুসাস্থ্য
  • হাসপাতাল
  • হেলথমুড
জেনজি স্পিরিট +
  • তারুণ্য কথন
  • প্রিয় ক্যাম্পাস
  • শিক্ষক বলেন
  • জেনজি স্পিরিট
টেকটিপস +
  • গবেষণা ও আবিষ্কার
  • অটোমোবাইল
  • গ্যাজেট
  • টেক টিপস
লিটমুড +
  • গল্প
  • কবিতা
  • মুক্তগদ্য
  • উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • বইয়ের রাজ্য
  • বই শোনা
  • লিটমুড
  • আর্ট
  • মুভি
  • মিউজিক
  • ফিচার
  • ম্যানার

05 February 2026 | ২২ মাঘ ১৪৩২

bongshaitimes.com
  • ফিচার
  • লিভিং
  • হেলথমুড
  • জেনজি স্পিরিট
  • লিটমুড
bongshaitimes.com
ফিচার
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • ফিচার
লিভিং
  • প্যারেন্টিং
  • যাপন
  • সম্পর্ক
  • ফ্যাশন
  • অন্দরমহল
  • রসুইঘর
  • রেস্তোরা
  • কেনাকাটা
  • বেড়ানো
  • ম্যানার
  • শখ
  • লিভিং
হেলথমুড
  • রোগবালাই
  • মনের অসুখ
  • আপনার ডাক্তার
  • নারীস্বাস্থ্য
  • শিশুসাস্থ্য
  • হাসপাতাল
  • হেলথমুড
জেনজি স্পিরিট
  • তারুণ্য কথন
  • প্রিয় ক্যাম্পাস
  • শিক্ষক বলেন
  • জেনজি স্পিরিট
টেকটিপস
  • গবেষণা ও আবিষ্কার
  • অটোমোবাইল
  • গ্যাজেট
  • টেক টিপস
লিটমুড
  • গল্প
  • কবিতা
  • মুক্তগদ্য
  • উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • বইয়ের রাজ্য
  • বই শোনা
  • লিটমুড
  • আর্ট
  • মুভি
  • মিউজিক
সর্বশেষ
প্রভাত ফেরি: বাঙালির শোক ও সংস্কৃতির অনন্য অভিযাত্রা আর ইউ ডেড! মানবতার মৃত্যু পুরুষের চোখে ‘গোল্ডডিগার’, প্রকৃতির হিসেবে ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি কবিতা ও অগ্রন্থিত আয়ূর বর্ণনা
  • লিটমুড

লিটমুড

উপলক্ষ্যের গদ্য: পিতৃগণ, উৎস অভিমুখে নিরন্তর পদযাত্রার ইতিহাস

লাবণ্য প্রভা

উপলক্ষ্যের গদ্য: পিতৃগণ, উৎস অভিমুখে নিরন্তর পদযাত্রার ইতিহাস

Published : 24 Jan 2026, 06:45 AM

 

এতো তীব্র শীত কি গ্যালো বছর ছিল! রোমকূপ ভেদ করে শৈত্যপ্রবাহ আমার রক্ত বরফ করে দিচ্ছে। অথচ আজ শুক্লা চতুর্দশীর চাঁদ আলোফুল হয়ে ফুটে থাকার কথা। মাথা বের করার কোনো উপায় নেই এই কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে। জেরা শেষ করেছে শোষকদল; অত:পর মুক্তির একটু আস্বাদ পেয়ে প্রাণ উদ্বেল হয়ে উঠে। কেন যে তীক্ষè ছুরির ফলা হৃৎপিণ্ড বিদ্ধ করতে গিয়েও থেমে গেল তা কেবল ঘাতকই বলতে পারবেন। আমি নি:শ্বাস নিচ্ছি; মুক্তি; উপলব্ধি করছি জীবনের অস্তিত্ব। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! চোখ ব্যেপে রাজ্যের ঘুম নামতে থাকে, আর নাসারন্ধ্রে ঢুকে যেতে থাকে পৃথিবীর পুরাতন বাতাস। সোঁদা এক গন্ধ চারদিকে! কোথাও কী বৃষ্টি হচ্ছে! কোথায়? বরেন্দ্রীতে; কট্টলিতে!
কট্টলী! একা! একা একাই বানিয়েছে বরেন্দির লাল মাটি। সূর্যের তাপ থেকে সেই লাল মাটিকে বাঁচাতে গাছপালা-ঝোঁপ-ঝাড়-জঙ্গলে ছেয়ে দিয়েছে। আর বরেন্দির পা ধুইয়ে দিতে তৈরি করেছে নদ-নদী। কতো জলচর প্রাণী সেখানে খেলা করে! তবু শূন্যতা যায় না কট্টলির। সূর্য দেবতার কাছে প্রার্থনা করে সে। সূর্য বলেন, তুমি রজ:স্বলা হও; মিলিত হও আমার সঙ্গে। তবে তার আগে তপস্যায় তুষ্ট করো আমায়। কট্টলি রাজি। রজ:স্বলা হয় সে। তার সেই ক্ষরণ রূপ নিল লোহিত নদীতে। লোহিত নদীতে ¯œান করে কট্টলি দিনের পর দিন সূর্যের আলিঙ্গনে নিজেকে সঁপে দেয় অনন্ত  শৃঙ্গারে। মৈথুন পূর্ণতা পেলে কট্টলি দুটি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে একটি নারী একটি পুরুষ, হামমা আর হামমিÑ সূর্য আর কট্টলির সন্তান। প্রথম কৈবর্ত নারী ও পুরুষ। কৈবর্তদের শস্যক্ষেত্র ভরা শালিধান। অঞ্জনলক্ষèী, আগুনবান, আন্ধারবুলি, আমপাবন, আসলো, আসতির, কেসুরকেলী, কৈজুড়িসহ আরো কতো নাম তাদের! মাটি তাদের মা, মাটি তাদের জীবন, মাটির গন্ধ চিনে চিনে তারা বড়ো হয়। মাটিকে উর্বরতা দেয়ার জন্য গাঁও দেবতার নামে কৈবর্ত যুবক-যুবতীরা ক্ষেত্রপূজা করে। লোহিতবর্ণের মৃত্তিকা তাদের দুহাত ভরে আশীর্বাদ করে। শান্তিপ্রিয় কৈবর্তরা নিজেদের জীবন, নিজেদের ধর্ম নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে নিজেরাই মগ্ন থাকে। বরেন্দিতে চাষাবাদ করে, মাছ ধরে, বনে বনে শিকার করে, যা জোটে খায়, না জুটলে খায় না। তবে এক জায়গায় তারা অনড়। তারা যেমন অন্যের ব্যাপারে মাথা ঘামায় না, তেমনি তাদের ব্যাপারে অন্যরা মাথা ঘামাবে এটাও চায় না।
কতযুগ আগের কথা! হাজার বছর আগের সমস্ত দৃশ্যচিত্র  যেন খুলে দিয়েছে তার বৈভব! আমার হাতে বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারে উপন্যাসÑ পিতৃগণ। সমস্ত শরীরে তীব্র যন্ত্রণা আর মনের বিক্ষিপ্ততা  কাটিয়ে আবার ডুব দেই হাজার বছরের অতলে। বিশাল জল¯্রােত পাড়ি দিয়ে মাটির ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে এক যুবা পুরুষ খুঁজছে তার পিতৃভূমিকে। কীভাবে খুজে পাবে সে তার শৈশবে হারিয়ে যাওয়া জন্মভূমি; পিতৃগৃহকে! গুরুর কথা মনে পড়ে, মাটিই চিনিয়ে দেবে। হ্যাঁ এই মাটি বরেন্দির মাটি। এই যুবক আর কেউ নয়। কৈবর্ত কবি সংস্কৃত ভাষায় দক্ষ পপীপ। যার জন্মের সময় দায়গ্রস্ত হয়ে আত্মবিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছিলেন তার পিতা। আর পিতৃঋণ শোধ করতে তাকেও দাস হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেই বদলে যায় তার জীবন। নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তাকে সুকৌশলে শিক্ষাদান করা হয়। যাতে সে কৈবর্তদের বঞ্চনা- বেদনার ইতিহাস লিখে যেতে পারে। পপীপ স্বাধীন কৈবর্ত কবি। কোনো রাজপুরুষের আজ্ঞাবহ হয়ে কলম ধরেন নি। যিনি কলম ধরেছিলেন নিজের কৌমের সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার দায় থেকে।

দুই.
বাঙালির প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের নাম কৈবর্ত বিদ্রোহÑ এটা সর্বজন স্বীকৃত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিসংগ্রামের আদিপর্বে অষ্টম শতকে পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কৈবর্ত কৃষকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিতে দেখা যায়। কৈবর্ত নেতা দিব্যোক সংগ্রামে জয়লাভ করে রাষ্ট্র সংগঠন করেছিলেন। গরীব মেহনতি মানুষ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো ভূখণ্ডের রাষ্ট্রক্ষমতায় এই প্রথম। পাল স¤্রাট দ্বিতীয় মহীপালকে পরাজিত ও হত্যা করে কৈবর্ত নেতা দিব্যোক বরেন্দ্রীকে আবার স্বাধীন করেন। দিব্যোকের মৃত্যুর পর তার ভাই রুদোক এবং রুদোকের পরে তার ছেলে ভীম একাদিক্রমে সাঁইত্রিশ বছর বরেন্দ্রীকে পাল সা¤্রাজ্যের হাত থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে পাল আমলে নাকি বাংলার ইতিহাস ছিল শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির ধর্ম বৌদ্ধধর্মের প্রসারিত ও থিতু হওয়ার সময়কাল। বলা হয়ে থাকে এই সময়ে বাংলা ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি ও বাঙালির রাজনৈতিক পরিচয়ের সমৃদ্ধির সূচনা হয়েছিল। তাহলে কৈবর্ত বিদ্রোহ কেন? শান্তিপ্রিয় কৈবর্ত জাতি কেন তবে অস্ত্র তুলে নিল হাতে?
ধরে নেই এখান থেকেই জাকির তালুকদারের ক্রমাগত ইতিহাসের পথে হাঁটা, বরেন্দ্রী অনুসন্ধান।
কী পেয়েছেন লেখক অবিরাম বরেন্দ্রীর মাটিতে হেঁটে! চলুন পাঠক আমরা বরং ‘পিতৃগণ’ পাঠে অনুধ্যায়ী হই। তার আগে লেখকের কথাটুকু জেনে নেই। দআর্যরা বাংলাদেশে এলেও বাংলা অঞ্চলকে করায়ত্ব করতে পারেনি সহজে। কয়েকশত বৎসর ধরে বারংবার আগ্রাসন চালিয়েও বাংলাকে দখলে নিতে পারেনি তারা। তখন ভারতবর্ষের যে অংশে তাদের দখল পোক্ত হয়েছিল সেই অংশকে আর্যাবর্ত নাম দিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চায় মগ্ন হয়ে থাকতে বাধ্য হলো তারা। আর সেই সঙ্গে এই প্রচারণাও চালিয়ে দিল ভারতবর্ষের যে যে অঞ্চল তাদের দখলে আসেনি সেগুলি পাপভূমি। আর্যাবর্তের যে চৌহদ্দির কথা লিখেছিলেন পতঞ্জলী, সেখানে বঙ্গ বা বাংলার কোনো নাম নেই। অর্থাৎ বঙ্গভূমির ভূমিপুত্ররা আর্যদের আগ্রাসন থেকে নিজেদের স্বাধীন রাখতে পেরেছিলেন। আর্যরা তাদের দখলকৃত উত্তরভারতকেন্দ্রিক এই আর্যাবর্তের বাইরের জনপদ ও মানুষকে অসুর, যবন, বয়াংসি, অনাস জাতীয় নামে ভূষিত করে। আর্যদের কেউ কোনো কারণে বাংলা অঞ্চলে পদার্পণ করে এসে ফিরে গেলে তাকে প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ পুনোষ্টোম যজ্ঞ করতে হতো। সেই বাংলাদেশ তারা দখল করতে সমর্থ হলো কয়েকশত বৎসর পরে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই অসুরদেশে বেদের বাণী প্রচার করা। আর দখলের পর শুরু হলো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। করতোয়ার নাম বদলে দেয়া হলো পূণ্যনদী, পুণ্ডবর্র্ধন হলো পূণ্যস্থান। যে বরেন্দ্রীর পূর্ব নাম ছিল কট্টলি, তার নাম দিল বরেন্দ্র। অর্থাৎ ইন্দ্রের বরে প্রাপ্ত। আর্যদের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ইন্দ্র দেবতা তাদের দিয়েছে এই লাল মাটির সমতল মালভূমি। আর এই ভূমির আদি মানুষ, সত্যিকারের ভূমিপুত্ররা, যারা এই মাটিকে বাসযোগ্য করে সভ্যতা গড়ে তুলেছেন জাতিগোত্রবর্ণভেদহীন সমাজ নির্মাণ করেছেন নিজেদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নির্মাণ করেছেন, তারা হয়ে  গেলেন নিজভূমে পরবাসী। শুধু নিজেদের মাটির ওপর থেকেই নয়, অধিকার হারালেন নিজেদের দেহ ও আত্মার ওপর থেকেও।
কিন্তু পরাজয় মেনে নেয়া ভূমিপুত্রদের রক্তে নেই। তাই চলতে থাকে সম্মুখ সমর, কখনো গেরিলা যুদ্ধ। যদিও আমাদের ধরে নিতে হয় বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করার ফলে জ্ঞানচর্চার প্রসার হয়েছিল বিস্তর, কিন্তু বিহারগুলোর জন্যই একসময় কৈবর্তদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বরেন্দ্রমির প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে মূল্য পরিশোধ  করতে হয়েছে কৈবর্তদেরই। যদিও ঐসব মন্দির-বিহার কোনোটির সঙ্গে তাদের সং¯্রব ছিলো না। কৈবর্ত কিংবা অন্য কোনো ভূমিপুত্রের প্রবেশাধিকার ছিল না কোনো বিহারে। ক্রমেই বিহারগুলো হয়ে উঠল তাদের গলার ফাঁস। গ্রামগুলো বিহারের হাতে সমর্পণ করার পর কৃষকরা দ্বৈত শাসনের অধীন হয়ে পড়ে। একদিকে রাজকোষে বার্ষিক খাজনা অন্যদিকে বিহারের খরচ মেটানোর জন্য যখন তখন চাপিয়ে দেয়া বাড়তি কর। জঙ্গলে পাখি শিকার বাবদ কর, নদীতে মাছ ধরতে গেলে জল-কর। শুধু কি তাই? জীবহত্যা মহাপাপ বলে আরেক ধাপ এগিয়ে কৈবর্তদের ওপর চাপিয়ে দেয় মৎস্য এবং পশুশিকারে নিষেধাজ্ঞা। অধিকতর উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী আর্যদের কাছে পরাজিত হয়ে , অন্যান্য কৌমের মতো কৈবর্তরাও রাজার নির্ধারিত কর মিটিয়ে নিজেদের মতো করে জীবন যাপন করতে চেয়েছে। কিন্তু বারংবার যখন আঘাত এসেছে তখন আর বিদ্রোহ না করে উপায় ছিলো না। বিদ্রোহের জন্য নেতা প্রয়োজন। দিব্যোকের মধ্যে কৈবর্তরা খুঁজে পেয়েছিল যোগ্য নেতার প্রতিকৃতি। বলা বাহুল্য দিব্যোক বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের প্রথম নেতা। কৈবর্ত বিদ্রোহ বিদেশী শত্রুর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহ।
বাংলার আরেকটি দুর্ভাগ্য এই যে তাকে বারবার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইতিহাস বিকৃতির। সংস্কৃত কবি সন্ধ্যাকর নন্দীর বিকৃত ইতিহাসের বিরুদ্ধে কলম ধরবার জন্য কৈবর্তদের যেমন প্রয়োজন ছিল আরেকজন কবির। তারা পেয়েছিল পপীপকে। যার হাতে লেখা হয়েছে কৈবর্ত জীবনগাঁথা। একইভাবে ইতিহাসের বিকৃতি ঠেকাতে হাজার বছর পর হলেও কাউকে না কাউকে সত্য ইতিহাস উদঘাটনে এগিয়ে আসতে হয়। আমি নির্দ্বিধ কৃতজ্ঞতার সাথে বলতে পারি জাকির তালুকদার নিষ্ঠার সঙ্গে সেই কাজটুকু করেছেন।

তিন.
ইতিহাস মিথ ঐহিত্য নির্ভর উপন্যাস স্বাধীনতার পূর্বে ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রচিত হয়েছে বেশ কয়েকটি। স্বাধীনতা উত্তরকালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আদর্শ ও মূল্যবোধের ক্রম অপসৃয়মানতা, রাষ্ট্রের ¯œায়ুকেন্দ্রে সেনাতন্ত্র ও ধর্মান্ধতার পুনরুজ্জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের অপব্যাখ্যা সংবেদনশীল শিল্পী চৈতন্যকে গভীর দ্বন্দ্ব আর রক্তক্ষরণের মধ্যে নিক্ষেপ করবে এটাই স্বাভাবিক। সেই রক্তক্ষরণ থেকে কলম ধরেছেন লেখকরা। রচিত হয়েছে আবু জাফর শামসুদ্দীনের ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’। স্বাধীনতা-পূর্বকালে রচিত ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’-এর দ্বিতীয় খণ্ড। বাঙালির নৃতাত্বিক ভৌগোলিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের সুদীর্ঘ পরিসর নিয়ে রিজিয়া রহমান রচনা করেছেন ‘বং থেকে বাংলা’। লেখা হয়েছে শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’। চর্যাপদের কাহিনীকে অবলম্বন করে সেলিনা হোসেন রচনা করেছেন ‘নীল ময়ূরের যৌবন’। এসব উপন্যাসে এসেছে নিজস্ব কৌম নিয়ে আত্মমর্যাদার কথা। প্রতিফলিত হয়েছে বিচিত্র বহিঃশত্রুর আক্রমণে পীড়িত মানবাত্মার চিরন্তন ক্রন্দন ও বিদ্রোহ। এই সকল উপন্যাসের ধারায় নতুন করে সংযোজিত হলো ‘পিতৃগণ’ উপন্যাসটি। যা বাঙালির প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রামাণিক দলিল বলেও আমরা ধরে নিতে পারি।

মার্কস বলেছেন, মানুষের ইতিহাস আসলে শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। এই সংগ্রাম যদি রাষ্ট্র, রাজা বা শোষক-শাসক-উৎপীড়কের বিরুদ্ধে যায় তখন বিদ্রোহীদের সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হয়, এরা রাষ্ট্রের শত্রু, রাজার শত্রু, সমাজের শত্রু, নৈতিকতার শত্রু এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত প্রচলিত রীতিনীতির শত্রু। এই স্বার্থকারিক অভিযোগে রাষ্ট্র বা রাজা তখন বিপক্ষকে দমন, উচ্ছেদ বা নির্মূল করা ঈশ্বরের আদেশ বা নৈতিক কল্যাণীয় দায়িত্ব বলে জ্ঞান ও প্রচার করে। লড়াইটা শুরু হয় তখনই।
একজনের জন্য যেটা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই অন্যজনের জন্য সেটা জবরদস্তি করে দখল টিকিয়ে রাখার লড়াই। সংগ্রামটা মূলত অসম-দুর্বল ও সবলের। এই সংগ্রাম বা দ্বন্দ্ব মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে চলে আসছে। এবং চলছে। এভাবেই ইতিহাসের পথচলা, বন্দী ও মুক্তির খেলা। শাসক ও শোষিতের টিকে থাকা। এর মধ্যে যে শক্তিতে দুর্বল সে কিছুদিনের জন্য বিপন্ন থাকে। কিন্তু চিরকালের জন্য কেউ বিপন্ন থাকে না, প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিদ্রোহ করে। আর সে যদি একবার জ্বলে উঠে, রুখে দাঁড়ায় তবে পৌরাণিক দৈত্যরাজার মতো দিগি¦জয়ীর অমোঘ আসনও টলে যায়।
‘পিতৃগণ’ মূলত বাঙালির শেকড় সন্ধানের উপন্যাস। তবে উপন্যাস হিসেবে ‘পিতৃগণ’ কতোটা সার্থক তা মহাকালের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলতে চাইÑ এ উপন্যাস হচ্ছে জীবনের গল্প, জীবনের মাঠ-ঘাট-নদী পেরোনোর গল্প, জীবনের বিষয় ও রহস্যলোকের গল্প। জীবনের ঐশ্বর্য, সমাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তির মানবত্মা, দেশ কালের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষের    লৌকিক সংস্কৃতি সৃজিত হয়েছে এই গ্রন্থের পরতে পরতে। লেখকের মায়াদর্শনের অলৌকিক আভায় ঝাপসা হয়ে উঠেছে স্বচ্ছ, অদৃশ্য হয়ে উঠেছে দৃশ্যমান, সুদূর নিকট, না দেখা না জানা হয়ে উঠেছে অতিপরিচিত। জাকির তালুকদার ‘পিতৃগণ’ উপন্যাসের সৃজনভূমিতে গভীর মুন্সিয়ানার সঙ্গে পাঠককে আবাহন করেছেনÑ আর আমি অতর্কিতে চলমান জীবনের আসর থেকে তার রাজ্যে ঢুকে পড়ি, পরিভ্রমণ করি। বিস্ময়ে আবিষ্কার করি ত্যাগে-প্রেমে মহীয়সী এক নারীকে যার নাম ঊর্ণাবতী। আবিষ্কার করি বীরত্বের প্রতীক ভীম আর সত্যানুসন্ধানী কবি পপীপকে।
ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস রচনা করা  কোনো অনায়াসসাধ্য কাজ নয়। এর জন্য প্রচুর শ্রম এবং সময় ক্ষেপণের প্রয়োজন হয়। ঘটনা পরম্পরা  সাজিয়ে গুছিয়ে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ইতিহাস আর সৃজনশীলতার সুষম সমন্বয় না হলে পদে পদে থাকে লেখকের পরিশ্রম ব্যর্থ হওয়ার ভয়। তাই লেখককে সন্তর্পনে এগিয়ে যেতে হয়- চরিত্র নির্মাণ করতে হয়, ঘটনার বিন্যাস ঘটাতে হয়। আমার ধারণা জাকির তালুকদার তার প্রচেষ্টার কমতি রাখেননি একটুও। বাঙালির ইতিহাস যেভাবে বারংবার বিকৃত করার চেষ্টা চলছেÑ সেই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে তাকে সত্য উদঘাটনে ব্রতী হতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস অনুধ্যায়ী পাঠক তার মেধা এবং দূরদর্শিতা দিয়ে ‘পিতৃগণ’ উপন্যাসটির মূল্যায়ন করবেন।
‘পিতৃগণ’ চিরকালের নির্যাতিত নিষ্পেষিত অবহেলিত বঞ্চিত মানুষের ফুঁসে ওঠার বীরত্ব গাঁথা হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই এ আমাদের শোণিতের পরম্পরা, যা আমাদের টেনে দাঁড় করিয়ে দেয় আপন প্রতিবিম্বের সামনে; চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়; এবং দ্বিধাহীন  জানিয়ে দেয়Ñ এই-ই তোমার শিকড়! এই-ই তোমার আত্মমর্যাদা!

 

 

এ সম্পর্কিত খবর
আফসানা বেগম প্রসঙ্গ : একটি নির্মোহ ভাবনা
আফসানা বেগম প্রসঙ্গ : একটি নির্মোহ ভাবনা
নারীবাদ: কে শত্রু, কে মিত্র (পর্ব দুই )
নারীবাদ: কে শত্রু, কে মিত্র (পর্ব দুই )
বালিকা ও স্মৃতি কিংবা ‘গাহে অচিন পাখি’ এবং প্রসঙ্গ: ইমদাদুল হক মিলন
বালিকা ও স্মৃতি কিংবা ‘গাহে অচিন পাখি’ এবং প্রসঙ্গ:  ইমদাদুল হক মিলন
আগারগাঁও কলোনি, শহীদুল জহির এবং নয়নতারা ফুল ফোঁটা না ফোঁটা
আগারগাঁও কলোনি, শহীদুল জহির এবং নয়নতারা ফুল ফোঁটা না ফোঁটা
Comments
No comments yet

Be the first to share your thoughts!

Add a Comment

আরও পড়ুন
সুপার হিরো অস্টিন
সুপার হিরো অস্টিন
ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক টাইমলাইন (১৯৪৭ - ৫৬)
ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক টাইমলাইন (১৯৪৭ - ৫৬)
জেফরি এপস্টাইন: সভ্যতার গায়ে বিকৃতির ক্ষত
জেফরি এপস্টাইন: সভ্যতার গায়ে বিকৃতির ক্ষত
প্রভাত ফেরি: বাঙালির শোক ও সংস্কৃতির অনন্য অভিযাত্রা
প্রভাত ফেরি: বাঙালির শোক ও সংস্কৃতির অনন্য অভিযাত্রা
আরও পড়ুন
ফিচার
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • ফিচার
লিভিং
  • প্যারেন্টিং
  • যাপন
  • সম্পর্ক
  • ফ্যাশন
  • অন্দরমহল
  • রসুইঘর
  • রেস্তোরা
  • কেনাকাটা
  • বেড়ানো
  • ম্যানার
  • শখ
  • লিভিং
হেলথমুড
  • রোগবালাই
  • মনের অসুখ
  • আপনার ডাক্তার
  • নারীস্বাস্থ্য
  • শিশুসাস্থ্য
  • হাসপাতাল
  • হেলথমুড
জেনজি স্পিরিট
  • তারুণ্য কথন
  • প্রিয় ক্যাম্পাস
  • শিক্ষক বলেন
  • জেনজি স্পিরিট
টেকটিপস
  • গবেষণা ও আবিষ্কার
  • অটোমোবাইল
  • গ্যাজেট
  • টেক টিপস
লিটমুড
  • গল্প
  • কবিতা
  • মুক্তগদ্য
  • উপন্যাস
  • প্রবন্ধ
  • বইয়ের রাজ্য
  • বই শোনা
  • লিটমুড
  • আর্ট
  • মুভি
  • মিউজিক
Follow us
Email: [email protected]
  • Disclaimer & Privacy Policy
  • About Us
  • Contact Us

Copyright © , Bongshai Times
Developed by Nokibul

THIS WEBSITE IS UNDER CONSTRUCTION