লিটমুড
Published : 26 Jan 2026, 05:41 PM
সম্প্রতি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগমের আকস্মিক অপসারণ আমাদের সামনে একটি পুরোনো কিন্তু জরুরি বিতর্ককে আবার নতুন করে নিয়ে এসেছে। একজন লেখক যখন কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হন, তখন আদতে কার লাভ হয়? লেখকের, নাকি প্রতিষ্ঠানের?
একজন লেখকের বিচরণক্ষেত্র হলো অসীম আকাশ, যেখানে কল্পনা আর সত্যের কোনো সীমানা নেই। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের কাজই হলো একটি নির্দিষ্ট কাঠামো (Structure) টিকিয়ে রাখা। কাঠামো নিয়মে চলে, প্রটোকলে চলে এবং অনেক সময় আপসে চলে। আফসানা বেগম যখন এই কাঠামোর ভেতরে সংস্কার করতে চেয়েছিলেন, তখনই সংঘাতটি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কারণ, প্রতিষ্ঠানের দেয়ালগুলো অনেক সময় পরিবর্তনের চেয়ে স্থবিরতাকেই বেশি পছন্দ করে।
আমরা দেখি, অনেক বড় বড় পণ্ডিত ও লেখক ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চান। ক্ষমতার একটি নিজস্ব জৌলুস আছে, যা অনেক সময় মেধাবীদেরও বিভ্রান্ত করে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষমতা লেখককে কোনো স্থায়ী আসন দেয় না, বরং লেখকের কলম থেকে তেজ কেড়ে নেয়। ক্ষমতার করিডোরে হাঁটতে গিয়ে লেখক যখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়েন, তখন তিনি আর স্বাধীন স্রষ্টা থাকেন না; তিনি হয়ে ওঠেন কাঠামোর একজন রক্ষক মাত্র।
আফসানা বেগমকে যেভাবে কোনো কারণ ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হলো, তা একজন সৃজনশীল মানুষের জন্য চরম অসম্মানজনক। এই যে অপসারণের গ্লানি—এটি কি আসত, যদি তিনি এই পদের পেছনে না ছুটতেন? লেখকের প্রকৃত সম্মান কোনো দাপ্তরিক চেয়ারে নয়, বরং তার পাঠকদের হৃদয়ে। ক্ষমতার মোহে পড়ে অনেক স্কলার বা লেখক নিজেদের সেই চিরস্থায়ী আসনটি হারিয়ে ফেলেন।
আফসানা বেগমের এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, লেখকের জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকাই শ্রেয়। প্রতিষ্ঠান তার কাঠামো রক্ষা করবেই, কিন্তু লেখককে রক্ষা করতে হবে তার আত্মসম্মান ও সৃজনশীল স্বাধীনতা।
Add a Comment