লিটমুড
Published : 18 Jan 2026, 07:16 AM
আগাথা ক্রিস্টির রহস্য উপন্যাসে বুঁদ হয়ে থাকেনি এমন পাঠক মেলা ভার। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তার লেখনী বিশ্বকে মুগ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু মৃত্যুর ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যক্তি আগাথা আজও এক রহস্য। ১৯৫৫ সালে বিবিসি রেডিওকে দেওয়া তার এক বিরল সাক্ষাৎকার থেকে এই কালজয়ী লেখিকার জীবনের কিছু অজানা ও চমকপ্রদ দিক উন্মোচিত হয়েছে।
ঘরকুনো স্বভাব ও সৃজনশীল শৈশব
আগাথা ক্রিস্টি নিজেকে সবসময় একজন সাধারণ নারী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করতেন। বাগান করা, পোষা কুকুর আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকাই ছিল তার শখ। কিন্তু এই শান্ত আবরণের আড়ালেই তিনি বুনতেন বিষপ্রয়োগ আর বিশ্বাসঘাতকতার জটিল সব জাল।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কিংবদন্তি লেখিকার কোনো প্রথাগত স্কুল শিক্ষা ছিল না! ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বাড়িতেই পড়াশোনা করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে বলেন:
"আমার লেখিকা হওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো প্রথাগত শিক্ষার অভাব।"
তিনি তার শৈশবকে ‘চরম অলস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই অলসতাই ছিল তার কল্পনার জগতের জ্বালানি। তার মতে, নিজের মনে গল্প বানানো এবং বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন পর্যাপ্ত সময় ছিল বলেই। তিনি বিশ্বাস করতেন, লেখার জন্য একঘেয়েমির চেয়ে বড় কোনো অনুপ্রেরণা নেই।
লেখার পদ্ধতি: কলম ধরার আগেই শেষ হতো গল্প
ক্রিস্টির লেখার পদ্ধতি ছিল বেশ অন্যরকম। তিনি মনে করতেন, মন দিয়ে কাজ করলে একটি বই শেষ করতে তিন মাসই যথেষ্ট। তবে আসল পরিশ্রমটা হতো কলম ধরার আগে। গল্পের প্লট বা ছকটি মাথায় নিখুঁতভাবে সাজিয়ে নেওয়া এবং প্রতিটি মোড় নিয়ে চিন্তা করাই ছিল মূল কাজ। একবার সব মাথায় গুছিয়ে ফেললে, লেখাটা ছিল স্রেফ কায়িক শ্রমের মতো।
তার কাছে উপন্যাসের চেয়ে নাটক লেখা ছিল বেশি আনন্দের। কারণ নাটকে দীর্ঘ বর্ণনার ঝামেলা নেই এবং কথোপকথনগুলো খুব দ্রুত ও প্রাকৃতিকভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে তার নাটক 'দ্য মাউসট্র্যাপ' (The Mousetrap) আজও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিষের নির্ভুল প্রয়োগ
আগাথা ক্রিস্টির গল্পে বিষের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুল। এর পেছনে কাজ করেছে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক নার্স এবং পরে ফার্মাসিতে কাজ করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ওষুধ এবং বিভিন্ন টক্সিন বা বিষ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। উল্লেখ্য, তার গল্পগুলোতে প্রায় ৪১ বার বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে খুনের নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায়।
ব্যক্তিগত জীবনের অমীমাংসিত রহস্য
১৯২৬ সালে যখন তার খ্যাতি তুঙ্গে, তখনই ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে দুর্যোগ। মায়ের মৃত্যু এবং স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি টানা ১০ দিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাকে খুঁজে পাওয়া গেলেও, নিজের আত্মজীবনীতে এই ঘটনাটি তিনি এড়িয়ে গেছেন। তিনি লিখেছিলেন:
"অসুস্থতার পর এসেছিল দুঃখ আর হতাশা। এটা নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করার প্রয়োজন নেই।"
Add a Comment